x 
Empty Product

আম সংরক্ষণে রাজশাহী অঞ্চলে হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়ে আম ব্যবসায়ী খন্দকার মনিরুজ্জামান মিনার বলেন, রাজশাহীর আম বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষ যাতে খেতে পারেন সেজন্য আম সংরক্ষণ করা দরকার। আমচাষিরা এখন যেভাবে বিপাকে পড়ছেন, হিমাগার থাকলে এমন সমস্যায় পড়তে হতো না। 

 

শনিবার (২ জুন) সকালে ‘আমের দেশে নতুন বেশে’ শীর্ষক এ আলোচনায় বক্তব্যকালে তিনি আরও বলেন, কোনো ফসলের উপর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যায় না। আম পাকলেই আমরা বুঝতে পারি আমটা পেকেছে। ভূ-প্রকৃতি একেক জায়গায় একেক ধরনের। দক্ষিণাঞ্চলের আমগুলো আগে শুরু হয়। উত্তরবঙ্গের আমগুলো পরে শুরু হয়। সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কারণে কৃষকদের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমার কাছে এক হাজার মণ আম আছে। এ আম আমি কোথায় রপ্তানি করবো। ব্যক্তিগত গ্রাহকদের কাছে ২শ' মণ বিক্রি করতে পারি। বাকিগুলো কাকে দেবো। 

ইথোফেন হরমোনের মাধ্যমে অপরিপক্ব আম পাকানোর অসাধু চক্রটিকে দমনের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি। 

নিউজটোয়েন্টিফোর ও রেডিও ক্যাপিটালের সিইও এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক এস এম আব্দুল কাদের।

এছাড়া উপস্থিত রয়েছেন বাংলানিউজের কনসালট্যান্ট এডিটর জুয়েল মাজহার, চট্টগ্রাম ব্যুরো এডিটর তপন চক্রবর্তী, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত পাল, আম চাষি ও ব্যবসায়ী ইসমাঈল খান শামীম, আম চাষি ও ব্যবসায়ী খন্দকার মনিরুজ্জামান মিনার, রাজশাহী অ্যাগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটির আহ্বায়ক মো. আনোয়ারুল হক, আম গবেষক ও লেখক মো. মাহাবুব সিদ্দিকী, আম চাষি ও ব্যবসায়ী (বাঘা) মো. জিল্লুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে রুবেল (৩২) নামে এক ডাকাতকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের পলাশবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেফতার রুবেল একই গ্রামের মৃত কসিমুদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, রুবেল দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ডাকাতিসহ নিজ গ্রামে চুরি করে আসছিল। রোববার (২৫ আগস্ট) রাতেও এক ব্যক্তির বাগানের আম চুরি করে। পরে তার বাড়ি থেকে ওই আম উদ্ধার করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। এতে রুবেলের দুই পা ভেঙে যায়। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রুবেলকে উদ্ধার করে। পরে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতে পাঠায়।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার মো. মশিউর রহমান জানান, গ্রেফতার রুবেলের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

http://chapaibarta24.com/news/23752

Saturday, 31 August 2019 19:30

বাগানের আম চুরি

Written by

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে রুবেল (৩২) নামে এক ডাকাতকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের পলাশবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেফতার রুবেল একই গ্রামের মৃত কসিমুদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, রুবেল দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ডাকাতিসহ নিজ গ্রামে চুরি করে আসছিল। রোববার (২৫ আগস্ট) রাতেও এক ব্যক্তির বাগানের আম চুরি করে। পরে তার বাড়ি থেকে ওই আম উদ্ধার করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। এতে রুবেলের দুই পা ভেঙে যায়। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রুবেলকে উদ্ধার করে। পরে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতে পাঠায়।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার মো. মশিউর রহমান জানান, গ্রেফতার রুবেলের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিগত কয়েকবছর আমের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ব্যবসায়ীরা। তবে এবার পুরো চিত্র উল্টো। মৌসুমের শেষেও জমজমাট চাঁপাইনবাবগঞ্জের আশ্বিনা আমের বাজার। ব্যবসায়ীরাও চাহিদা মতো দাম পেয়ে খুশি। ফলে ব্যস্ত সময় পার করছেন আম ব্যবসায়ীরা।

সাধারণত চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের মৌসুম শেষ হয় আগস্ট মাসের শুরুর দিকে। এবার আশ্বিনা আমের যত্ন নেয়ায় বাজারে আম পাওয়া যাবে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। বুধবার (২৮ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কানসাট বাজারে আম বিক্রি হয়েছে মণ প্রতি ৪ হাজার থেকে শুরু করে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। মৌসুম শুরুর মত এখনও পুরো বাজারে রয়েছে আম ভর্তি সাইকেল ও ভ্যানে ভরা। ব্যবসায়ীদের কেনা বেচায় মুখর পুরো বাজার।

সেলিমাবাদ এলাকা হতে বাজারে এক ভ্যান (৮ মণ) আম নিয়ে বিক্রির জন্য এসেছিলেন আবু জাওয়াদ দাদখান নামে এক বাগানি। তিনি বলেন, গত বছরগুলোতে আমের দাম না পাওয়ায় আমের তেমন যত্ন নেয়া হয়নি। এবার আমের ভাল দামের আসায় প্যাকেট করা হয়। তাদের বাগানের আম আরও প্রায় ১৫ দিন বাগানেই রাখা যাবে। তিনি আরও বলেন, প্রতি মণ আশ্বিনা আম বিক্রি করেছেন সাড়ে ৪ হাজার টাকায়। সময় যতই পার হবে আমের দাম ততই বাড়বে বলে আশা করেন এই বাগানি।

বেলাল বাজার এলাকার বাগান মালিক জসিম জানান, এখনও তার বাগানে প্রায় ১০০ মণ আম রয়েছে। সে আম বিক্রি করে গত কয়েক বছরের দাম পুষিয়ে নিতে পারবেন। তিনিও বুধবার কানসাট বাজারে আম আনেন দুই ভ্যান। সবগুলো আম বিক্রি করেছেন সাড়ে ৪ হাজার টাকায়। তবে বেশ কয়েকজন আম বাগানি অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে সয়লাব হয়ে গেছে ভারতীয় চোষা আমে।

ভারতীয় আমের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় কমে এসেছে দেশীয় আমের মূল্য। যদি ভারতীয় আম আমদানি না হত-তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতি মণ আশ্বিনা আম বিক্রি হত ১০ হাজার টাকায়। তারা আমের মৌসুমে ভারতীয় আম আমদানি বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বলেও জানান।

https://dainiksomoysangbad24.com/archives/74579

বিগত কয়েক বছর ভরা মৌসুমে আমের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিরা। তবে এবার পুরো উল্টো চিত্র। মৌসুমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত চাহিদা মতোই দাম পাচ্ছেন এখানকার আম চাষিরা। ফলে ব্যস্ত সময় পার করছেন আম সংশ্লিষ্টরা।

সাধারণত চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের মৌসুম শেষ হয় আগস্ট মাসের শুরুর দিকে। এবার আশ্বিনা আমের যত্ন নেওয়ায় বাজারে আম পাওয়া যাবে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বুধবার কানসাট বাজারে আম বিক্রি হয়েছে মণ প্রতি ৪ হাজার থেকে শুরু করে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। 

সকালে কানসাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মৌসুম শুরুর মতোই এখনো পুরো বাজারে রয়েছে আম। সাইকেল ও ভ্যানে ভরা অবস্থায় আম বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদভারে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো বাজার।

সেলিমাবাদ এলাকা থেকে বাজারে আট মণ আম নিয়ে বিক্রির জন্য এসেছিলেন আবু জাওয়াদ দাদখান নামে এক আম চাষি। 

তিনি বলেন, গত বছরগুলোতে আমের দাম না পাওয়ায় আমের তেমন যত্ন নেওয়া হয়নি। এবার আমের ভালো দামের আশায় প্যাকেট করা হয়। তাদের বাগানের আম আরও প্রায় ১৫ দিন বাগানেই রাখা যাবে। প্রতিমণ আশ্বিনা আম বিক্রি করেছেন সাড়ে ৪ হাজার টাকায়। সময় যতই পার হবে আমের দাম ততই বাড়বে বলে আশা করেন এই আম চাষি।

বেলাল বাজার এলাকার বাগান মালিক জসিম জানান, এখনো তার বাগানে প্রায় ১শ মণ আম রয়েছে। সে আম বিক্রি করে গত কয়েক বছরের দাম পুষিয়ে নিতে পারবেন। তিনিও বুধবার কানসাট বাজারে আম আনেন দুই ভ্যান। প্রতিমণ আম বিক্রি করেছেন সাড়ে ৪ হাজার টাকা দরে। 

তবে কয়েকজন আম চাষি অভিযোগ করেন, ঢাকা-চট্টগ্রামের বাজারে সয়লাব হয়ে গেছে ভারতীয় চোষা আমে। ভারতীয় আম আমদানি বেড়ে যাওয়ায় কমে এসেছে দেশীয় আমের দাম। যদি ভারতীয় আম আমদানি না হতো তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতি মণ আশ্বিনা আম বিক্রি হতো ১০ হাজার টাকা করে। তারা আমের মৌসুমে ভারতীয় আম আমদানি বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

থাই আম থাইল্যান্ডে চাষ করা আমের জাত যা আমাদের দেশে থাই আম নামে পরিচিত। তবে কোনো থাই আমের জন্ম থাইল্যান্ডে নয়। আমের আদি নিবাস এই ভারতীয় উপমহাদেশেই। থাইল্যান্ড আমের কিছু আদি জাত নিয়ে গবেষণা করে উন্নত অনেক জাত উদ্ভাবন করেছে। সেসব জাতের মধ্যে বেশ কিছু জাত তারা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করছে। কিছু কিছু জাত অন্য দেশের মাটিতেও চাষ করা হচ্ছে। সম্প্রতি থাইল্যান্ড থেকে বেশ কিছু জাতের আম এ দেশে এসেছে। জাতগুলো হলো চুকানন, মিয়াচাও, মোহাচনক, নাম ডক মাই, নাম ডক মাই মান, নাম ডক মাই ৪, উমরন, থাই কাঁচামিঠা প্রভৃতি। এসব জাতের মধ্যে এ দেশে নাম ডক মাই জাতটি পাকা আম হিসেবে এবং থাই কাঁচামিঠা জাতটি কাঁচা আম হিসেবে খাওয়ার জন্য অনেকের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। নাম ডক মাই জাতটি এ দেশে বিভিন্ন নার্সারিতে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিতি পেলেও জাতটি আসলে একই। বৃক্ষমেলাসহ বিভিন্ন নার্সারিতে এখন নাম ডক মাই জাতের আমের চারা পাওয়া যাচ্ছে।

নাম ডক মাই জাতের বৈশিষ্ট্যঃ এ জাতের আম কাঁচা ও পাকা দুই অবস্থাতেই খাওয়া যায়। গাছ মাঝারি আকৃতির, ঘন পত্রপল্লববিশিষ্ট, গাছের গড়ন খাড়া। নতুন পাতা হালকা সবুজ রঙের, বয়স বাড়ার সাথে সাথে গাঢ় সবুজ হয়ে যায়। ছয় বছরের একটা গাছ ৬ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। কলমের চারা লাগানোর পরের বছর থেকেই গাছে মুকুল আসে ও ফল ধরে। চারার গাছে ফল ধরতে চার থেকে পাঁচ বছর লেগে যায়।

এ জাতের ফল লম্বাটে, একটু বাঁকানো, অগ্রভাগ ক্রমেই সরু ও ভোঁতা। কাঁচা আমের রঙ সবুজ, কিন্তু পাকার পর খোসা পুরোপুরি হলুদ হয়ে যায়। একটি আমের গড় ওজন ৩০০ গ্রাম, সাধারণত ২৫০ থেকে ৪০০ গ্রামের মধ্যে আমের ওজন হয়ে থাকে। এ জাতের আম প্রায় ১৩ সেন্টিমিটার লম্বা ও ছয় সেন্টিমিটার চওড়া। পাকার পর শাঁসের রঙ হয় হলুদ ও নরম। শাঁস খুবই মিষ্টি ও আঁশবিহীন। তবে খোসার কাছে শাঁস নরম হতে হতে আঁটির কাছের শাঁস অনেক সময় বেশি নরম হয়ে জেলি বা কাদার মতো হয়ে যায়। আমের ওজনের চার ভাগের তিন ভাগই শাঁস, এক ভাগ খোসা ও আঁটি। খোসা বেশ পাতলা। পাকার পর আম থেকে মৃদু মিষ্টি ঘ্রাণ বের হয়। এ জাতের আমের বীজ বহুভ্রূণী বা পলিঅ্যামব্রায়নি প্রকৃতির। সচরাচর একটা আমের আঁটি থেকে একটা চারাই হয়। কিন্তু এ জাতের আমের একটি আঁটি থেকে অনেকগুলো চারা হয়। প্রায় সব জাতের আমেরই আঁটি থেকে গজানো চারায় মাতৃগুণ হুবহু এক না থাকলেও নাম ডক মাই জাতের আঁটি থেকে গজানো চারায় মাতৃগুণ একই থাকে এবং সে চারার গাছে ধরা আমগুলোর বৈশিষ্ট্যও হয় একই।

চাষাবাদঃ বাড়ির আঙিনায়, ছাদে ড্রামে, পুকুরপাড়ে, বাণিজ্যিক বাগানে নাম ডক মাই জাতের আমগাছ লাগানো যায়। বসতবাড়িতে শখ করে দু-একটা গাছ লাগানো যেতে পারে। তবে কেউ যদি দু-এক হেক্টর জমিতেও এ জাতের বাণিজ্যিক বাগান গড়তে চান তো সে ক্ষেত্রে আম্রপালি আমের চেয়ে লাভ কম হবে না। এ জাতের আমের গাছ লাগানোর জন্য চাই উঁচু জমি, যেখানে বন্যা বা বৃষ্টির পানি আটকে থাকে না। বেলে, বেলে দোআঁশ ও উপকূলের লোনা মাটি ছাড়া যেকোনো মাটিতে নাম ডক মাই জাতের আম চাষ করা যেতে পারে। চাষ করা যায় লাল মাটি ও পাহাড়েও। তবে দো-আঁশ ও এঁটেল দোআঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো। এরূপ মাটিতে জৈবসার ব্যবহার করে চাষ করলে গাছের বাড়বাড়তি ও ফলন ভালো হয়।

কলমের গাছ লাগালে অতি ঘন পদ্ধতিতে দূরত্ব কম দিয়ে চারা লাগানো যায়। পরে ৫-৬ বছর পর্যন্ত সেসব গাছ থেকে ফল পাওয়ার পর দুই গাছের মাঝখান থেকে একটা গাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলা যায়। এতে প্রথম ৩-৪ বছরে একই পরিমাণ জমি থেকে প্রায় দ্বিগুণ লাভ হতে পারে।

কাটার পর বাকি গাছগুলো স্থায়ীভাবে রেখে ভালো করে যত্ন নিলে সেসব গাছ পূর্ণ হয়ে ওঠে। সাধারণত এ জাতের চারা বা কলম লাগানোর জন্য চার থেকে ছয় মিটার দূরত্ব দেয়া হয়। এ দূরত্বের হিসাবে হেক্টরপ্রতি ১৮৫ থেকে ২৭৮টি চারা লাগানো যায়। অতি ঘন পদ্ধতিতে তিন মিটার দূরত্ব দিয়ে সব দিকে সারি করে গাছ লাগানো যেতে পারে। তা না হলে প্রথমেই ছয় মিটার দূরে দূরে চারা বা কলম লাগিয়ে মাঝখানের জায়গা ফাঁকা না রেখে গাছ যথেষ্ট বড় না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন শাকসবজি, মুগ ও মাষকলাই ডাল, তিল, আদা প্রভৃতি লাগানো যায়।

চারা লাগানোর ৭-১০ দিন আগে গর্ত খুঁড়ে গর্তের মাটিতে গর্তপ্রতি ১০-১৫ কেজি গোবর সার মিশিয়ে রেখে দিতে হবে। কলম বা চারা সুরক্ষার ব্যবস্থাও করতে হবে। বর্ষাকাল চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। তবে পলিব্যাগ বা টবের কলম খুব শীত ছাড়া বছরের যেকোনো সময় লাগানো যায়। সে ক্ষেত্রে সেচের ব্যবস্খা করতে হবে। গর্তের ঠিক মাঝখানে চারাটি সোজা করে লাগিয়ে চারার গোড়ায় পানি দিতে হবে। চারা বাড়তে শুরু করলে গাছের গোড়ার চার পাশে চারটি ট্যাবলেট সার পুঁতে দিলে সারা বছর আর কোনো সার দেয়ার দরকার পড়ে না। তবে দ্বিতীয় বছর থেকে পরিমাণমতো ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জিঙ্ক ও জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে বোরন সারও দিতে হবে। না হলে আমের গুটি ফেটে যেতে পারে। এ জাতের আমগাছের সুন্দর গড়ন, বাড়বাড়তি, রোগ-পোকার আক্রমণ কমানো ও ভালো ফলনের জন্য ছাঁটাই খুব দরকার।

বিশেষ করে রোপণের পর প্রথম কয়েক বছর ছাঁটাই কাজ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এতে মূল কাণ্ড বা গুঁড়ি মজবুত হওয়া ছাড়াও গাছের মাথা বেশি ঝাঁকড়া হয়, বেশি ফুল-ফল ধরে। গাছে ফল ধরা শুরু হলে নিচে ঝুলে পড়া ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে। খুব ঘনভাবে এঁটে থাকা ডালও ছেঁটে পাতলা করে দিতে হবে। গাছকে ছেঁটে ৩-৫ মিটার উচ্চতার মধ্যে রাখতে পারলে স্প্রে করা ও ফল তুলতে সুবিধে হয়। এ জাতের গাছে নিয়মিতভাবে প্রতি বছরই ফল ধরে, তবে সব বছর সমান ধরে না।

চারা বা কলম তৈরিঃ সরাসরি বীজ বা আঁটি থেকে চারা তৈরি করা যায়। পূর্ণভাবে পাকা ফল গাছ থেকে পেড়ে আরো দু-চার দিন ঘরে রেখে নরম করতে হবে। এরপর আম থেকে আঁটি সংগ্রহ করে প্রথম বীজতলার মাটিতে বসাতে হবে। বীজতলায় ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে আঁটিগুলো সারি করে বসানোর পর আঁটির ওপরে আলগা ঝুরা মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। আঁটি বের করার পরপরই বীজতলার মাটিতে ফেলতে পারলে ভালো, না হলে অল্প কিছু দিনের জন্য ছায়ায় শুকিয়ে চটের বস্তায় ভরে রেখে দেয়া যায়। একটা আঁটি থেকে যে কয়টি চারা গজাবে সে চারাগুলোকে শেকড়সহ সাবধানে কেটে আলাদা করে দ্বিতীয় বীজতলায়, টবে বা বড় পলিব্যাগে গোবর মিশানো মাটিতে বসাতে হবে। এক বছর বয়স হলে সেসব চারা বাগানে লাগানোর উপযুক্ত হবে। জ্যৈষ্ঠ থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত চারা তৈরির উপযুক্ত সময়।

তবে কলম করতে চাইলে মাঝারি আকারের গাছ হয় এমন কোনো দেশি জাতের আমের আঁটি থেকে প্রথমে চারা তৈরি করে নিতে হবে। চারার মাথা কেটে ফাটল তৈরি করে কত ক্লেফট গ্রাফটিং পদ্ধতিতে নাম ডক মাই গাছের ডগা তেরছা করে কেটে ফাটলে ঢুকিয়ে ফিতে দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। ক’দিনের মধ্যে জোড়া লেগে যায়। জুড়ে দেয়া ডগা থেকে নতুন পাতা ছাড়া শুরু হলেই বুঝতে হবে জোড়া লেগে গেছে। নতুন চারা উৎপাদনের জন্য এ পদ্ধতিই ভালো। কেননা এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত কলমের গাছে রোপণের এক থেকে দুই বছর পর থেকেই ফল ধরতে শুরু করে।

বালাই ব্যবস্থাপনাঃ এ জাতের গাছে পাউডারি মিলডিউ বা সাদা গুঁড়া রোগ বেশি হয়। ছত্রাকজনিত এ রোগটি মুকুল ও মুকুলের ডাঁটিতে আক্রমণ করে সাদা পাউডারে ঢেকে ফেলে। এতে ফুল ও ছোট ফল পচে নষ্ট হয়, সব ঝরে পড়ে। মুকুল আসার পর থেকে ফল কলাইদানার মতো হওয়া পর্যন্ত এ রোগটি সাধারণত আক্রমণ করে। কুয়াশা হলে রোগটা বাড়ে। রোগের আক্রমণে দানা বেঁধে ওঠা গুটিও ঝরে যায়। তাই মুকুল আসার পরপরই ফুল ফোটার আগেই যেকোনো অনুমোদিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। এ ছাড়া কাঁচা অবস্থায় আমের মুখ ছিদ্র করে একধরনের পোকা ভেতরে ঢুকে শাঁস ও কচি আঁটি খেয়ে নষ্ট করে দেয়। পাকার সময় আক্রমণ করে ফলের মাছি। ওরাও ফল ছিদ্র করে শাঁস খেয়ে পাকা আম নষ্ট করে। তাই এসব পোকার আক্রমণ থেকে ফল রক্ষার জন্য অনুমোদিত কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

বারি আম-১১

 

আম কম বেশি সবারই পছন্দের একটি ফল। কিন্ত পছন্দের এই ফলটি যখন আমাদের দেশে সারা বছরই পাওয়া যাবে তখন কতই না ভালো হবে আম প্রেমিক মানুষের জন্য। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এমনি একটি আমের জাত উদ্ভাবন করেছে যা সারা বছর ফল দিবে। আমের এই জাতটি হলো বারি আম ১১।

 

বারি আম ১১ এর বিশিষ্ট্যঃ

 

  • বারি আম ১১ বারোমাসি জাতের আম অর্থাৎ সারা বছরই ফল দিয়ে থাকে।
  • বছরে তিনবার ফল প্রদান করে থাকে। নভেম্বর, ফেব্রুয়ারি ও মে মাসে গাছে মুকুল আসে এবং মার্চ-এপ্রিল, মে-জুন এবং জুলাই-আগস্ট মাসে ফল আহরণের উপযোগী হয়।
  • ফল লম্বাটে ( লম্বায় ১১.৩ সেমি ) এবং প্রতিটি আমের গড় ওজন ৩০০-৩৫০ গ্রাম।
  • কাঁচা আমের ত্বক হালকা সবুজ। আর পাকলে ত্বক হয় হলুদাভ সুবজ।
  • আম গাছটির উচ্চতা ৬-৭ ফুট। গাছটির কোনো অংশে মুকুল, কিছু অংশে আমের গুটি, কিছু অংশে কাঁচা আম, আবার কোথাও পাকা আম। একটি গাছেই ফুটে উঠেছে আমের ‘জীবনচক্র’।
  • এটি খেতে সুস্বাদু, তবে একটু আঁশ আছে। ফলের শাঁস গাঢ় হলুদ বর্ণের।
  • এই জাতের ৪-৫ বছর বয়সী গাছ থেকে প্রতিবার ৬০-৭০টি আম আহরণ করা যায়। এছাড়াও এই জাতের একটি গাছে বছরে প্রায় ৫০ কেজি পর্যন্ত আম হয়ে থাকে।
  • বারি আম ১১ এর এক বছর বয়সী গাছে আমের মুকুল আসে।
  • আম গাছের একটি থোকার মধ্যে ৫-৬ টি আম থাকে।
  • আমের উচ্চফলনশীল এই জাতটি বাংলাদেশের সব এলাকায় চাষ উপযোগী।
  • আমের এই জাতটি সম্পূর্ণ দেশীয় আম হাইব্রিড নয়। এটি প্রাকৃতিকভাবে সংকরায়ণের ফলে সৃষ্ট।

 

চাষের উপযুক্ত জমিঃ মাঝারী উঁচু জমি এবং দোআঁশ মাটি বারি আম ১১ চাষের জন্য উপযোগী।

বংশবিস্তারঃ বীজের বা কলমের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা যায়। বীজ থেকে চারা উৎপাদন করলে মাতৃগাছের মতো ফল পাওয়া যায় না। তাই কলমের মাধ্যমেই এই জাতের আমের চারা উৎপাদন ও বংশবিস্তার করা উত্তম। এক্ষেত্রে জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় / ভাদ্র – আশ্বিন (মে-জুন/ আগস্ট-সেপ্টেম্বর) করাই উত্তম।

আম পাকার সময়ঃ মে মাস আমের মৌসুম হওয়ায় এ মাসে আমের ফলন বেশি হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে আগস্ট মাসে, তৃতীয় পর্যায়ে নভেম্বর এবং চতুর্থ পর্যায়ে ফেব্রুয়ারি মাসে আম পাকবে।

 

ফলনঃ  বারি আম ১১ এর ফলন ২২,০০০ কেজি/হেক্টর বা ২২ টন/ হেক্টর। এছাড়াও  প্রতি শতকে ৮০-৯০ কেজি আমের ফলন হয়ে থাকে।

 

প্রাপ্তিস্থানঃ বারি আম -১১ বা বারমাসি  আমের  এই জাতটি এখন বাংলাদেশের সব উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রেই চাষ হচ্ছে। আমের এই জাতটি দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দেশের সকল আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব কেন্দ্রের  বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কাজ করে যাচ্ছে।

 

সম্ভাবনাঃ বারি আম-১১ থেকে সারা বছর ফুল,ফল ও পাকা আম পাওয়া যায বিধায় ভবিষ্যতে  এই জাতের আমের চাষ বাড়বে। এছাড়াও বাড়ির ছাদেও বারি আম-১১ চাষ করা সম্ভব।

অনেকটা আকস্মিকভাবেই আজকে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামের চাষী আবুল কাসেমের বারোমাসী আম বাগান পরিদর্শন করি। চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অনুষ্ঠিত ভূট্টা বীজ চাষী ও বীজ ব্যবসায়ীদের সাথে মত বিনিময় শেষে যশোর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অভিভাবক তথা এই অঞ্চলের কৃষির পুরাধা অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ চন্ডী দাস কুন্ডু স্যারের সাথে জীবনগরের বারোমাসী আম খেত পরিদর্শনের চমৎকার একটা সুযোগ পেয়ে যায়।

আমরা বারোমাসী আমের নাম কম বেশি সবাই শুনেছি; কিন্তু বারোমাসী আম বলতে যে দু’চারটে বারোমাসী আম জাতের সন্ধান আমাদের জানা আছে সেগুলোর কোনটারই গুণগত মান সন্তোষজনক নয়। সাধারণভাবে বারোমাসী আম আকারের ছোট ও টক হয়ে থাকে। ইতোপূর্বে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রুট ট্রি ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্প হতে যে দু’একটি বারোমাসী আম জাতের প্রবর্তন করা হয়েছিল সেসব আমও সার্বিক গুণগত মানের বিচারে তেমন একটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি।

আকস্মিকভাবে হালে এমন একটা বারোমাসী আমের প্রবর্তন ও সম্প্রসারণ করে চলেছেন চুয়াডাঙ্গার আম বাগানী ও নার্সারী মালিক আবুল কাসেম। আবুল কাসেমের বাগানের এই বারোমাসী আম স্বাদে গন্ধে অপূর্ব অতুলনীয়।
আজ ১৮ সেপ্টেম্বর(২০১৮) তারিখে আবুল কাসেমের আম বাগানে যেয়ে পাকা আমের রসনায় তৃপ্ত হয়ে নিজেরাই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না অসময়ে প্রাপ্ত বারোমাসী আমের স্বাদ দেখে। অতিরিক্ত পরিচালক স্যার দুপুরের কাঠফাঁটা রোদে আম বাগানের ছায়ায় দাঁড়িয়ে কৃষক আবুল কাসেমের একটা এক্সক্লুসিভ সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন এবং গাছপাকা বারোমাসী আমের স্বাদ গ্রহণ করেন। স্যারের সাথে আমি সহ আরো উপস্থিত ছিলেন জীবননগরের উপজেলা কৃ্ষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও গাংনীর উপজেলা কৃষি অফিসার কে এম শাহাবুদ্দিন প্রমুখ।
আবুল কাসেমের দেয়া তথ্যানুসারে তার প্রবর্তিত এই বারোমাসী আমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো:

★বছরে তিনবার ধরে এবং প্রতি গাছে আমের সংখ্যাও যথেষ্ট বেশি;
★প্রতিটি মৌসুমেরই প্রতিটি আমের ওজন ২০০-৩০০ গ্রামের মত।
★লম্বাটে জাতের এই আম পাকলে হলুদাভ সুষম রং হয়। পাকা আম দেখলে মনে হবে কেমিক্যালে পাকানো আম;
★আমে কোন আঁশ নেই;
★রোগবালাই নেই বললেই চলে। আম বাগানেও কোন রোগ বালাইয়ের দেখা মেলেনি;
★প্রতিটি মৌসুমের আমের স্বাদই অপূর্ব;
★আমের বর্তমান পাইকারী বাজার মূল্য ২০০-২৫০ টাকা কেজি
★স্বাভাবিক রুমের তাপমাত্রায় এই আম ২০-২৫ দিন পর্যন্ত অনায়াসে সংরক্ষণ করা যায়।

থাই এই বারোমাসী আম কিভাবে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সম্প্রসারিত হলো সেটা নিয়ে আছে আরেক মজাদার কাহিনী।

এই আমের প্রবর্তক জীবননগরের সার ব্যবসায়ী নুর ইসলাম, যিনি আবুল কাসেমের খুব বন্ধু মানুষ। বেড়ানোর কাজে নুর ইসলাম ২০১০ সালে থাইল্যান্ড ভ্রমনের প্রক্কালে লুকিয়ে এমন একটা আম চারা সংগ্রহ করে এনে আবুল কাসেমের কাছে হস্তান্তর করেন। আবুল কাসেমের অনুরোধেই নুর ইসলাম এই চারাটি থাইল্যাণ্ড থেকে সংগ্রহ করে অানেন। এমন আমের খবর লোক মারফত আগেই জেনেছিলেন আবুল কাসেম। একটিমাত্র আম চারাকে আবুল কাশেম গোপনে পরম যত্ন ও মমতায় বড় করত: এটার গুণগত মান যাচাই করতে থাকেন। পরে এটার সার্বিক মান নিশ্চিত হওয়ার পরে সেটা সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। শুরুতে তিনি এই আমের ব্যাপারে কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করেন এজন্যে যেন কেউ এটার পেটেন্ট চুরি করতে না পারে। একটা লাভজনক অবস্থায় আসার পরে আবুল কাসেম এটার গুণপনা জনগনের জন্যে অবমুক্ত করেন। বর্তমানে আবুল কাসেমের ২০ বিঘা জমিতে এখন বারোমাসী জাতের এই আম রয়েছে। তার আম বাগানে কাঁচাপাকা আম ও মুকুলের সমারোহ এবং আমভাঙ্গার মহড়া দেখে মনে হচ্ছিল এটা যেন আমের ভরা মৌসুম। জীবননগর থেকে কালিগঞ্জের দিকে ২ কিমি অগ্রসর হলে রাস্তার ডান পাশে বিজিবি ক্যাম্পের পূর্বপাশে তেতুলিয়া নামক স্থানে “নাজমূল নার্সারী” নামে আবুল কাসেমের একটা বড় নার্সারীতে এখনো ২ লাখ উন্নতমানের থাই বারোমাসী আমের চারা মজুদ রয়েছে, বলে জানান আবুল কাসেম।

নার্সারী স্থলে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত পরিচালক চন্ডী স্যার এই জাত সম্প্রসারণের জন্যে মুঠোফোনে কথা বললেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার ইউং ও সরেজমিন ইউং এর পরিচালক মহোদয়দের সাথে।
অতিরিক্ত পরিচালক স্যার বারোমাসী এই জাত দ্রুত সম্প্রসারণের ব্যাপারে আবুল কাসেমকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

নার্সারী মালিক আবুল কাসেম জানালেন স্থানীয় উপ সহকারি কৃষি অফিসার শাহ আলম এবং জীবননগরের উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ নিয়মিত বাগানের পরিচর্যার ব্যাপারে কারিগরী পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

আপনারা কেউ যদি বারোমাসী এই থাই আম সম্পর্কে জানতে চান বা এই আমের চারা সংগ্রহ করতে চান তাহলে নিচের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন:
*আবুল কাসেম: ০১৭১৬-৩৩১৯৫৫
*নাজমুল (আবুল কাসেমের বড় ছেলে): ০১৯৩১-২৪৯৭৩৭
*তাজুল (আবুল কাসেমের মেঝ ছেলে): ০১৯৩০-৭৩৪০৪১

প্রতিটি আম কলমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০-২০০ টাকা; তবে পাইকারী ভিত্তিতে সংগ্রহ করতে চাইলে সেখানে কিছু মূল্য ছাড় পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট নার্সারী কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।
========================
লেখক: উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মেহেরপুর।

কাটিমন আম

প্রতিটি কাটিমন আমের চারা ২ -৩.৫ ফুট উচ্চতা

"কাটিমন"একটি থাই ভ্যারাইটির উন্নতমানের ১২ মাসি আম। যেটা যে কোন বারোমাসি আমের জাতের মধ্যে সেরা(স্বাদের দিক থেকে) দারুন মিষ্টি এবং আশ নেই বললেই চলে।

এটি থাইল্যান্ড,ইন্দোনেশিয়া,মালায়েশিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়।

********** কাটিমন" আম এর বৈশিষ্ট্যসমূহ*************** ::::

#আমাদের দেশের আবহাওয়া উপযোগী। আম্রপালির মত ছোট গাছে আম হয়।

#এই জাতে প্রচুর আম ধরে।একই গাছে একসাথে মুকুল,ছোট,মাঝারি,বড়,পাকা আমথাকে বা যে কোন পর্যায়ের মুকুল /আম থাকে।

@ এই গাছে নতুন কুশি ছাড়লেই মুকুল আসে।
@ এর কোন সিজন আর অফ সিজন নেই।
@ এইজাতের আম কাঁচাখেতে মিষ্টি(টক না) এর মত এবংপাঁকা খুবই মিষ্টি।
@ আমের আটি তুলনামূলক ছোট।
@ প্রতিটি আমের গড় ওজন ২০০-২৫০ গ্রাম।

আমরা মনে করি বাণিজ্যিক ভাবে আমাদের দেশে যদিএই জাতের আম বাগান করা যায় তাহলে অফ সিজনে উচ্চমূল্যে এই আম বিক্রি করে অনেক লাভবান হওয়া সম্ভব।

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারকে এক সপ্তাহের মধ্যে এ নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া ফলের বাজার ও আড়তগুলোতে নজরদারির পাশাপাশি কেউ যেন রাসায়নিক মিশিয়ে বাজারে ফল বিক্রি করতে না পারে, সে জন্য পুলিশ প্রধান, র‌্যাব মহাপরিচালক, বিএসটিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (কেমিক্যাল টেস্টিং উইং) একটি তদারকি কমিটি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আদেশটি বাস্তবায়ন করে শিল্প সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, খাদ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিএসটিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, বিএসটিআইয়ের পরিচালক (কেমিক্যাল টেস্টিং উইং), রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এবং এনবিআর চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

আসন্ন আমের মৌসুম সামনে রেখে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

গত মঙ্গলবার মৌখিক আদেশের পর রিটকারী পক্ষ ও রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীরা সাত দিনের মধ্যে পুলিশ মোতায়েনের কথা বললেও লিখিত আদেশে নির্বাহী হাকিমের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নজরদারি করার নির্দেশনা দেখা যায়।  

এদিকে হাই কোর্টের আদেশটি স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ সোমবার চেম্বার আদালতে একটি আবেদন করলেও মঙ্গলবার তা প্রত্যাহার করার জন্য আবেদন করে। বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের চেম্বার আদালত তখন উত্থাপিত হয়নি মর্মে তা খারিজ করে দেয়। 

এর ফলে হাই কোর্টের আদেশটিই বহাল থাকছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, “হাই কোর্ট লিখিত আদেশ নিয়ে বলেছে, রাজশাহীসহ দেশের বড় আমবাগানগুলোতে যেন কেউ ক্ষতিকারক কেমিকেল প্রয়োগ করে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে না পারে সে জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ মনিটরিং করবে।

“আমরা দেখেছি হাই কোর্টের আদেশ আইনের সঙ্গে সম্পূরক এবং জনগণের স্বাস্থ্যসেবার জন্য অত্যন্ত সহায়ক। এ কারণে হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে যে আবেদন করেছিলাম, সেটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।”

ফল পাকাতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রয়োগ রোধে হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি একটি রায় দিয়েছিল।

মামলাটি চলমান রাখায় এ বছর আমের মৌসুম সামনে রেখে গত রোববার হাই কোর্টে আবেদন করে রিটকারী পক্ষ। যার প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট এ আদেশ দিল।

রাজশাহী অঞ্চলের আম বাগানগুলোতে কেমিক্যাল ব্যবহার রোধে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আম বাগানগুলো পর্যক্ষেণ করবে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার এ কথা জানান।

হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন আজ মঙ্গলবার চেম্বার বিচারপতি মো: নুরুজ্জামানের আদালত থেকে প্রত্যাহারের পর তিনি এ কথা জানান।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, হাইকোর্টের আদেশ সঠিক হয়েছে। এ কারণে আমরা স্থগিতের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

এর আগে গতকাল রাজশাহী অঞ্চলের আম বাগানগুলোতে কেমিক্যাল ব্যবহার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৯ এপ্রিল রাজশাহী অঞ্চলের আম বাগানগুলোতে কেমিক্যাল ব্যবহার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

এক সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

একইসাথে ফলের বাজার ও গুদামগুলোতে যেন আমে কেমিক্যাল ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করতে বলা হয়েছে। পুলিশের আইজি, বিএসটিআইয়ের চেয়ারম্যান, র‌্যাবের মহাপরিচালক এ আদেশ বাস্তবায়ন করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আদালত বলেছেন, ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণেই মানুষের শরীরে রোগব্যাধি সৃষ্টি হচ্ছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

রাজশাহীসহ দেশের বড় আম বাগানগুলোতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার রোধে সাত দিনের মধ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন নয়, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে পুলিশকে নজরদারী করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এদিকে আমের বাগানে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার ঠেকানোর জন্য হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনটি প্রত্যাহার করে নিতে চাইলে মঙ্গলবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের চেম্বার জজ আদালত তা উত্থাপিত হয়নি বলে খারিজ করে আদেশ দেন।

ফলে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ আপিল বিভাগে বহাল থাকছে বলে নিশ্চিত করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো.আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

হাইকোর্টের লিখিত আদেশ হাতে পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বাশার জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাজশাহীসহ দেশের বড় আমবাগানগুলোতে যেন কেউ ক্ষতিকর কেমিক্যাল প্রয়োগ করে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে না পারে সে জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ বিষয়টি মনিটরিং করবে।

আমরা দেখেছি হাইকোর্টের আদেশ আইনের সঙ্গে সম্পূরক এবং জনগণের স্বাস্থ্য সেবার জন্য অত্যন্ত সহায়ক। তিনি জানান, হাইকোর্টের আদেশ সঠিক হয়েছে। এ কারণে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে যে আবেদন করেছি সেটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ হাইকোর্টের লিখিত আদেশটি এখনও দেখেননি উল্লেখ করে জানান, ‘রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিলেন। আবেদনটি শুনানির জন্য উঠলে তা প্রত্যাহার করে নিতে চাইলে আদালত উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন।’

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ থাকলে বিষয়টি খুব ভালো হয়েছে। চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারবেন।’

আমে যেন কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ না হয় সেটি নিশ্চিতে গত ৯ এপ্রিল রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আম বাগানে পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাতদিনের মধ্যে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজিকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

এ ছাড়া ফলের বাজার ও আড়তে আমসহ অন্যান্য ফলে রাসায়নিক মেশানো বা ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে কি না- তা নজরদারি করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করতে বলা হয়। পুলিশের আইজি, বিএসটিআই, র্যাব মহাপরিচালককে এ আদেশ বাস্তবায়ন করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।

আসন্ন আমের মৌসুমকে সামনে রেখে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা এক রিটের সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৯ এপ্রিল বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম।

২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে মনজিল মোরসেদের করা এক রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট সাত দফা নির্দেশনা দেন। সেখানে আমের মৌসুমে রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধ এবং একটি পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করতে বলা হয়। যার ধারাবাহিকতায় নতুন করে আমের মৌসুম আসায় আইনজীবী মনজিল মোরসেদ হাইকোর্টে এক সম্পূরক আবেদন করে নির্দেশনা চান।

Page 1 of 32