x 
Empty Product
Sunday, 17 May 2020 01:04

পাহাড়ে বাম্পার ফলন। ৮০০ কোটি টাকার আম নিয়ে উদ্বেগ

Written by 
Rate this item
(0 votes)

আবহাওয়া ভালো থাকায় পাহাড়ে এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রায় ৮০০ কোটি টাকার আম। তবে শেষ পর্যন্ত এই আম বাজারে পৌঁছানো যায় কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ। আমবাগানের মালিকদের পাশাপাশি ছোটখাটো বাগানের চাষিদের মাঝেও এখন অনিশ্চয়তা।
বাগান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আম পাকতে শুরু করবে। তবে করোনার অভিঘাতে বাজার ব্যবস্থাপনায় সংকট হলে চাষিদের কপালে দুঃখ আছে। কোটি কোটি টাকার ফলন নষ্ট হয়ে যাবে। তাই গাছের আম যথাযথভাবে বাজারে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির পাহাড়ে আমের প্রচুর ফলন হয়। একসময় সনাতন পদ্ধতিতে আম চাষে ফলন বেশি পাওয়া যেত না। পরবর্তীতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাষাবাদ শুরু হয়। এতে ফলন বেড়ে যায়। কয়েক বছর ধরে পাহাড়ে বৈজ্ঞানিকভাবে আম চাষ হচ্ছে। হাজার হাজার হেক্টর পাহাড়ে চলছে আমের উৎপাদন। আমবাগানের পাশাপাশি আনারস, লেবু, লিচুসহ নানা ফলে মধুফলের ভান্ডার হয়ে উঠছে পাহাড়।
কিন্তু এসব ফল বাজারজাতে এবার সংকট তৈরি হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে আম বিক্রির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা কতটুকু করা যাবে তা নিয়ে সংশয়ে সংশ্লিষ্টরা। বড় বড় বাগান কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা আছে এমন বাগান মালিক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্যোগ নিলেও ছোটখাটো মালিকরা আছেন শঙ্কায়। বর্তমানে তীব্র গরম পড়ছে। ফল পাকবে। কিন্তু এই ফল কীভাবে বিক্রি করবেন, ন্যাষ্য দাম পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগে তারা। পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে পাহাড়ের নানা স্থানে আম্রপালি, রাংগোয়াই (মিয়ানমারের জাত), থাই এবং স্থানীয় জাতের আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাহাড়ে সবচেয়ে বেশি আমবাগান রয়েছে বান্দরবানে। বান্দরবান সদর, রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি এই চার উপজেলায় আমের বাগান বেশি। এ জেলায় মোট ৭৪০০ হেক্টর পাহাড়ে আমবাগান রয়েছে। গত বছর এসব বাগান থেকে ৭৩ হাজার টন আমের ফলন হয়েছিল। এবার ৯০ হাজার টন আম পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হক।
বান্দরবানের নানা স্থানে বড় বড় আমবাগানের পাশাপাশি ছোট ছোট অনেক বাগান রয়েছে। যেখানে দুই-চার টন ফলন হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের বড় বড় বেশ কিছু বাগানের পাশাপাশি উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশও বাগানের সাথে জড়িত। আগে জুমচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এমন উপজাতীয়রা এখন আমবাগান করেন। সদর উপজেলায় বম ও মারমা, থানছি উপজেলায় মারমা এবং রোয়াংছড়ি উপজেলায় মারমা ও তংচ্যংঙ্গা সমপ্রদায় আম চাষ করছেন।
রাঙামাটির পাহাড়েও প্রচুর আমের বাগান রয়েছে। এখানে সাধারণত আম্রপালি এবং রাঙ্গুলী আমের চাষ হয়। রাঙামাটির বিলাইছড়ি, মগবান, বালুখালি, কুতুকছড়ি, জিপতলী, সাপছড়ি, বাঘাইছড়ি, লংগদু, জুরাইছড়ি ও বরকল এলাকায় আমের বাগান আছে।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা দৈনিক আজাদীকে জানান, রাঙামাটিতে ৩৩৭০ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এসব বাগানে এবার প্রচুর ফলন হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন বেড়েছে। এবার অন্তত ৩৫ হাজার টন আম পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
খাগড়াছড়িতেও প্রচুর আমবাগান রয়েছে। খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুঃ মুর্ত্তুজ আলী আজাদীকে বলেন, খাগড়াছড়িতে এবার আমের দারুণ ফলন হয়েছে। এলাকার ৩২৪৪ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এসব বাগান থেকে এবার ২৯ হাজার ১৯৬ টন আম পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে আমরা ৩০ হাজার টন আম পাব বলে আশা করছি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আমচাষে অল্প সময়ে ফলন পাওয়া যায়। ২/৩ বছর বয়স থেকে আমের ফলন শুরু হয়। দীর্ঘসময় পর্যন্ত টানা ফলন পাওয়া যায়। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি আমচাষের জন্য উপযোগী। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নানা জাতের আমের চাষ করায় প্রতিটি বাগান এখন অতীতের তুলনায় সমৃদ্ধ। বিষমুক্ত আমের চাষ হচ্ছে পাহাড়ে-পাহাড়ে। আগামী সপ্তাহ থেকে আম আসতে শুরু করলেও ১৫ জুন থেকে পুরোদমে আম বাজারে আসতে শুরু করবে বলে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান। তারা বলেন, এখন প্রচুর কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বেপারিরা কাঁচা আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি কেজি দশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যেসব আম ঝড়ে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে সেসব আম কাঁচা বিক্রি করা হলেও গাছে গাছে থোকায় থোকায় আম ঝুলছে। যেগুলো দিন কয়েকের মধ্যে পাকলে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের নানা স্থানে বিক্রি করা হবে। দেশের আমের চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম যোগান দেয়।
কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, বান্দরবানে ৯০ হাজার টন, রাঙামাটিতে ৩৫ হাজার টন এবং খাগড়াছড়ির বাগান থেকে ৩০ হাজার টন মিলে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন আম পাওয়া যাবে। প্রতি কেজি পঞ্চাশ টাকা করে হলেও এই আমের দাম প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। তবে এবার করোনা পরিস্থিতিতে বিশাল এই বাজারের কী অবস্থা হবে তা নিয়ে শঙ্কায় কর্মকর্তারা।
এদিকে কয়েকজন বাগান মালিক গতকাল আজাদীকে বলেন, গতবারের চেয়ে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আম ঠিকভাবে বাজারে পৌঁছানোর ওপর তাদের ভাগ্য নির্ভর করছে। তারা বলেন, চট্টগ্রাম থেকে বেপারিরা গিয়ে আম কিনে নেন। তবে এবার বেপারিরা ঠিকভাবে যেতে পারছেন কিনা বা পরিবহন কীভাবে করবেন, বাজারে ক্রেতা থাকবে কিনা, এসব বিষয়ের ওপর পাহাড়ের হাজার হাজার মানুষের ভাগ্য নির্ভর করছে।
একাধিক আমবাগানের মালিক আজাদীকে বলেছেন, পাহাড়জুড়ে আমসহ নানা ফলের সম্ভাবনা। অথচ বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে চাষিরা প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। তারা পাহাড়ে হিমাঘার নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আম পরিবহন এবং বাজারজাতকরণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও কামনা করেন।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://dainikazadi.net

Read 464 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.