x 
Empty Product
Tuesday, 23 April 2019 06:55

বগুড়ায় বাড়ছে বাণিজ্যিক আম উৎপাদন

Written by 
Rate this item
(0 votes)

আম চাষ বিস্তৃত হচ্ছে বগুড়ায়। এ জেলায় আমের উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বাগানের আকার। আমের বাণিজ্যিক বাগান গড়ে তুলে জেলায় অনেকে সফলতাও পেয়েছেন। এছাড়া বাজারে ভালো দাম পাওয়া বগুড়ায় বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদন বাড়ছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবারো জেলায় আমের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন চাষীরা।

বগুড়া আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বগুড়া, জয়পুরহাট, পাবনা ও সিরাজগঞ্জে আমের বাগান ছিল ৮ হাজার ১ হেক্টর। এর মধ্যে শুধু বগুড়ায় আম বাগান ছিল ৩ হাজার ৫৫৭ হেক্টর। ওই সময় চার জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ৮৩ হাজার ২৪৪ টন, যার মধ্যে বগুড়ায় উৎপাদন হয়েছিল ৩১ হাজার ২২০ টন।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে চার জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ৯২ হাজার ১৪৫ টন, যার মধ্যে বগুড়ায় উৎপাদন হয়েছিল ৩৮ হাজার ৬৩৬ টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চার জেলার ৮ হাজার ৯৫৪ হেক্টরের বাগান থেকে আম উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১২১ টন। অর্থাৎ গত তিন বছরে এ অঞ্চলে আমের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৪১ হাজার ৮৭৭ টন।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে বগুড়ায় আম উৎপাদন প্রায় ৪২ হাজার টন। ওই সময় জেলায় আম বাগানের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে জেলায় আম বাগানের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ হেক্টর।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বগুড়াসহ এ অঞ্চলের চার জেলায় এখন বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদন হচ্ছে। শুধু বগুড়ায় চার শতাধিক ব্যক্তি বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদন করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত মৌসুমের তুলনায় এবার আমের ফলন বেশি হবে। এরই মধ্যে গাছে আমের গুটি বড় হতে শুরু করেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুল আলম জানান, বগুড়ায় ধীরে হলেও আমের আবাদ বাড়ছে। বিশেষ করে সদরের উঁচু জমিতে আম চাষ বাড়ছে। এছাড়া শেরপুর, ধুনট, নন্দীগ্রাম, শিবগঞ্জ, গাবতলী উপজেলায় আম চাষ হচ্ছে। আমের ফলন বৃদ্ধির জন্য চাষীদের বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বগুড়া বনানী হর্টিকালচার সেন্টারে উপপরিচালক আব্দুর রহীম জানান, জেলায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আমের চারা বিক্রি হয়। এ চারা নিয়ে অনেকেই বাগান তৈরি করছেন। হর্টিকালচার সেন্টার থেকে বারি-৪ ও উন্নত জাতের আম্রপলি চারা বিক্রি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এ জাতের আমের ফলন বেশি হয়, স্বাদও বেশ মিষ্টি। এছাড়া ক্ষীরশাপাতি, ল্যাংড়া, হাঁড়িভাঙ্গা, নাগফজলি, গোপালভোগ, ফজলি ও বারি আম-১১ জাতের আমের চারা বিক্রি হয়। এর মধ্যে বারি-১১ জাতের গাছে বছরে তিনবার আম পাওয়া যায়। এ কারণে জাতটিকে বারোমাসি আম বলা হয়।

সদরের বারোপুর এলাকার একটি বাণিজ্যিক আম বাগানের শ্রমিক মো. আমিরুল জানান, এবার গাছে আমের মুকুল ও গুটি ভালো দেখা যাচ্ছে। ঝড় তেমন একটা হয়নি। যে ঝড় হয়েছে, তাতে এখন পর্যন্ত বাগানের আম ভালো আছে। বেশি ঝড় হলে বাগানের ক্ষতি হয়। তিনি জানান, বাগানের আম পাকার সময় হলে কিছু ফল রেখে দিয়ে বাকি আম স্থানীয় ফল ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারিভাবে বিক্রি করে দেয়া হয়।

গাবতলী উপজেলার কাগইল এলাকার আম বাগানের মালিক আব্দুর রহিম জানান, মুকুল আসার পর থেকেই গাছের পরিচর্যা চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমের ভালো ফলন পাওয়া যাবে। গত বছর স্থানীয় বাজারে আম বিক্রি করে বাগান গড়ার খরচ উঠেছে। এ বছর কী হবে এখনো বলা যাচ্ছে না। সবেমাত্র মৌসুম শুরু হয়েছে।

Read 624 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.